ইন্টারভিউ দিতে দিতে জুতোর তলা পাতলা হয়ে গিয়ে একটা ফুঁটো হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। তবুও চাকরি নামের হিরার হরিনের দেখা পেলাম না এখন পর্যন্ত। সবা...
ইন্টারভিউ দিতে দিতে জুতোর তলা পাতলা হয়ে গিয়ে একটা ফুঁটো হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। তবুও চাকরি নামের হিরার হরিনের দেখা পেলাম না এখন পর্যন্ত। সবাই শুধু মামা চাচা আর টাকা খোঁজে। আমার মামা চাচা নেই, আর টাকা হচ্ছে বহুদূরের অাত্মীয়। মাঝে মাঝে এসে একটু আধটু দেখা করে আবার নিখোঁজ হয়ে যায়। এই কারনে চাকরি হয়না আমার।
তো আজকেও একটা চাকরির ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য বসে আছি। গায়ে নতুন শার্ট, পায়ে চকচকে জুতা পরে বসে আছি। কিন্তু এই জামা জুতা আমার নয়। এইসব হচ্ছে আমার বন্ধুর অবদান। পুরোনো ধুলোমলিন জুতো আর সাধারন জামা পরে ইন্টারভিউ দেয়ার কারনেই নাকি আমার চাকরি হয়না। তাই আজ আমার বন্ধু রাজীব তার জামা জুতো আমায় পরিয়ে দিল।
তো বসে আছি অনেক্ষন ধরেই। চাকরি প্রত্যাশী শুধু আমি একাই না, আরো অনেকেই আছে। সবাই উৎকন্ঠা আর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছে। তো একসময় অপেক্ষার পালা শেষ হলো। একে একে সবাই ভেতরে ঢুকছে আর মলিন মুখে বের হচ্ছে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারলাম এই বিড়ালদের ভাগ্যে শিঁকে ছেড়েনি।
তো আজকেও একটা চাকরির ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য বসে আছি। গায়ে নতুন শার্ট, পায়ে চকচকে জুতা পরে বসে আছি। কিন্তু এই জামা জুতা আমার নয়। এইসব হচ্ছে আমার বন্ধুর অবদান। পুরোনো ধুলোমলিন জুতো আর সাধারন জামা পরে ইন্টারভিউ দেয়ার কারনেই নাকি আমার চাকরি হয়না। তাই আজ আমার বন্ধু রাজীব তার জামা জুতো আমায় পরিয়ে দিল।
তো বসে আছি অনেক্ষন ধরেই। চাকরি প্রত্যাশী শুধু আমি একাই না, আরো অনেকেই আছে। সবাই উৎকন্ঠা আর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছে। তো একসময় অপেক্ষার পালা শেষ হলো। একে একে সবাই ভেতরে ঢুকছে আর মলিন মুখে বের হচ্ছে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারলাম এই বিড়ালদের ভাগ্যে শিঁকে ছেড়েনি।
-- ভাই ইন্টারভিউ দেয়া লাগবে না। ইন্টারভিউ যে নিচ্ছে সে ডাকাত প্রকৃতির লোক। চাকরি হওয়ার সুযোগ নাই। জাগো বেকার জাগো, মান ইজ্জত নিয়ে ভাগো।
একটা ছেলে ইন্টারভিউ রুম থেকে বেরিয়ে কথাগুলো বলতে বলতে বেরিয়ে গেল। এইসব কথা শুনে মনে মনে নিজেকে নিজেই বলে উঠলাম,
-- আবির ভায়া তুমি যতই নতুন জামা জুতে পরে আসো, চাকরি তোমার ভাগ্যে নেই। তারচেয়ে ভাল হবে একটা ভাঙ্গা থালা নিয়ে রাস্তায় গড়াগড়ি দিয়ে ভিক্ষা করো। কয়েকদিনেই বিলগেটস হয়ে যাবে।
এসব কথা ভাবছিলাম আর নখ কামড়াচ্ছিলাম। নখ কামড়াতে ভালই লাগছিলো। হঠাৎ একজন সুন্দরী ললনা ইন্টারভিউ রুম থেকে বেরিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। তারপর বললো,
-- স্যার এবার আপনার পালা।
-- ও আচ্ছা।
-- ও আচ্ছা।
দুরুদুরু বক্ষে এগিয়ে গেলাম ইন্টারভিউ কক্ষে। ইন্টারভিউ রুমের ভেতর থেকে কেমন যেন গোঙ্গানির শব্দ আসছে। আমার গলা শুকিয়ে গেল। মনে হচ্ছিল সাহারা মরুভুমিতে আটকে গেছি। একফোটা পানি না পেলে বুঝি এখনি মারা যাবো। এর আগে অনেক ইন্টারভিউ দিয়েছি। কিন্তু কখনো এমন নার্ভাস আর ভয় পাইনি। আজ কেন এমন হচ্ছে?
-- আসতে পারি স্যার?
-- আসার জন্যই তো এসেছো, সিট ডাউন।
-- আসার জন্যই তো এসেছো, সিট ডাউন।
যিনি ইন্টারভিউ নিচ্ছেন তিনি উল্টোদিকে মুখ করে বসে আছেন। কানে মোবাইল, নিশ্চয়ই কাউকে ফোন দিচ্ছেন। আমি তাকিয়ে আছি স্যারের টেবিলের উপর ঢেকে রাখা পানির গ্লাসের দিকে। পানি দেখে পানির পিপাসা বেড়ে গেছে অনেক বেশি। স্যার যেহেতু অন্যদিকে ফিরে আছেন সেহেতু পানিটা খেয়ে ফেললেও বুঝতে পারবে না।
যেই ভাবা সেই কাজ। আস্তে করে গ্লাসটা উঠিয়ে নিয়ে ঢকঢক করে পানিটা মেরে দিলাম। কিন্তু এই পানির স্বাধটা কেমন যেন হোমিওপ্যাথি ঔষুধের মত মনে হলো, একটু ঝাঁজ লাগলো নাকে। হতে পারে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পানি। তাই সাধারন পানির থেকে স্বাধটা একটু আলাদা।
পানিটা খাওয়ার পর তাকালাম স্যারের দিকে। স্যার ফোনে কথা বলছেন,
যেই ভাবা সেই কাজ। আস্তে করে গ্লাসটা উঠিয়ে নিয়ে ঢকঢক করে পানিটা মেরে দিলাম। কিন্তু এই পানির স্বাধটা কেমন যেন হোমিওপ্যাথি ঔষুধের মত মনে হলো, একটু ঝাঁজ লাগলো নাকে। হতে পারে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পানি। তাই সাধারন পানির থেকে স্বাধটা একটু আলাদা।
পানিটা খাওয়ার পর তাকালাম স্যারের দিকে। স্যার ফোনে কথা বলছেন,
-- অনামিকা সোনা, তুমি টেনশন করো না। আমি এসে যাবো আধাঘন্টার মধ্যে। ইন্টারভিউ নেয়া শেষ হলেই আমি চলে আসবো। আচ্ছা রাখি তাহলে, লাভইউ সোনা।
এমন লুতুপুতু ফোনালাপ শুনে কিছুসময় হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করছিল অতীতে। হাঁটতে ইচ্ছে করছিল রোদেলার সাথে হাতে হাত ধরে। রোদেলা হচ্ছে আমার ইয়ে, মানে গার্লফ্রেন্ড। ওর সাথে হাত ধরে হাঁটার ইচ্ছে অনেকদিনের। কিন্তু বাস্তবে তা কখনোই সম্ভব হয়নি। কারন রোদেলার একটাই কথা, মোটামুটি একটা চাকরি জোগাড় করে তাকে বিয়ে করতে হবে। তারপর হাত ধরাধরি, জড়াজড়ি, ইয়ে টিয়ে সব হবে। তার আগে কিচ্ছু হবার নয়।
তো বাস্তবে ওর হাত ধরতে পারিনি বলে আমি থেমে থাকিনি। কল্পনায় বহুবার রোদেলার কোমল নরম হাত ধরে ঘুরে বেড়িয়েছি। কে জানে রোদেলার হাত কোমল নরম নাকি খসখসে শক্ত। আজকেও ইচ্ছে করছিল হাত ধরে হারিয়ে যেতে। কিন্তু এখন হারিয়ে গেলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা হারিয়ে যাবে। তাই একেবারে বাস্তবে খুটি গেড়ে বসলাম।
স্যার উল্টোদিক থেকে ঘুরে আমার দিকে মুখ ফেরালেন। স্যারের চেহারা দেখে আমি তো টিনের চালে কাক, মানে অবাক। আরে এটাতো.....
তো বাস্তবে ওর হাত ধরতে পারিনি বলে আমি থেমে থাকিনি। কল্পনায় বহুবার রোদেলার কোমল নরম হাত ধরে ঘুরে বেড়িয়েছি। কে জানে রোদেলার হাত কোমল নরম নাকি খসখসে শক্ত। আজকেও ইচ্ছে করছিল হাত ধরে হারিয়ে যেতে। কিন্তু এখন হারিয়ে গেলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা হারিয়ে যাবে। তাই একেবারে বাস্তবে খুটি গেড়ে বসলাম।
স্যার উল্টোদিক থেকে ঘুরে আমার দিকে মুখ ফেরালেন। স্যারের চেহারা দেখে আমি তো টিনের চালে কাক, মানে অবাক। আরে এটাতো.....
-- হুম তুমিই তাহলে লাস্ট? এর পর আর কেউ নেই?
-- জানিনা স্যার।
-- শুরুতেই জানিনা দিয়ে শুরু? এই জেনারেশনের ছেলেরা দেখি জানিনা জেনারেশন। যাই জিজ্ঞেস করি তাতেই বলে জানিনা স্যার। এই জানিনা শব্দটা আমার একেবারেই অপ্রিয়।
-- সরি স্যার।
-- ইটস ওকে। লেটস বিগেন দ্যা........
-- জানিনা স্যার।
-- শুরুতেই জানিনা দিয়ে শুরু? এই জেনারেশনের ছেলেরা দেখি জানিনা জেনারেশন। যাই জিজ্ঞেস করি তাতেই বলে জানিনা স্যার। এই জানিনা শব্দটা আমার একেবারেই অপ্রিয়।
-- সরি স্যার।
-- ইটস ওকে। লেটস বিগেন দ্যা........
স্যার নিশ্চয়ই লেটস বিগেন দ্যা ইন্টারভিউ জাতীয় কিছু একটা বলতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু তার আগেই স্যারের দৃষ্টি চলে গেল খালি পানির গ্লাসের দিকে। স্যার একবার পানির গ্লাসের দিকে তাকান আবার আমার দিকে তাকান।
-- এই ছেলে পানি তুমি খেয়েছো?
-- স্যার আমি পানি খাইনা।
-- মানে?
-- মানে স্যার আমি পানি পান করিনি।
-- হুম।
-- স্যার আমি পানি খাইনা।
-- মানে?
-- মানে স্যার আমি পানি পান করিনি।
-- হুম।
স্যার ল্যান্ডলাইনে কাকে যেন ফোন দিয়ে ইচ্ছেমত ধুয়ে দিলেন।
-- তোমাকে না বললাম একগ্লাস পানিতে ত্রিশফোটা আলসারের ঔষুধ মিশিয়ে আমার টেবিলে রেখে যেতে? (কিছুক্ষন নিরবতা) দিয়ে গেছো মাই ফুট, এখানে শুধু খালি গ্লাস পড়ে আছে। তাড়াতাড়ি গ্লাসে করে পানি আর ঔষধ দিয়ে যাও।
কথা বলা শেষ করে তিনি তাকালেন আমার দিকে। এইজন্যই তো বলি পানি খাওয়ার সময় নাকে ঝাঁজ কেন লাগলো।
-- তোমার কাগজপত্র দেখে মনে হচ্ছে তুমি খুব ট্যালেন্টেড। আচ্ছা তুমিই যেহেতু লাস্ট, সেহেতু তোমাকে একটা সহজ প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে পারলে চাকরি হবে নয়তো নক আউট।
-- জী স্যার প্রশ্ন করুন।
-- ক্রিস্ট দ্যা রিডিমার কোন দেশের কোন শহরে অবস্থিত?
-- জী স্যার প্রশ্ন করুন।
-- ক্রিস্ট দ্যা রিডিমার কোন দেশের কোন শহরে অবস্থিত?
প্রশ্নটা শুনেই আমার চোখ চকচক করে উঠলো। এই প্রশ্নের উত্তর আমি জানি। রোদেলাকে যেদিন আমি প্রোপোজ করেছিলাম সেদিন রোদেলা আমাকে বলেছিল,
-- আচ্ছা তোমাকে একটা প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে পারলে তোমার জন্য আমার মনের দরজা খোলা আর উত্তর দিতে না পারলে আই উইল কিক ইউর.......
-- কিক মারতে হবে না, প্রশ্নটা করো।
-- ক্রিস্ট দ্যা রিডিমার কোন দেশের কেন শহরে অবস্থিত?
-- কিক মারতে হবে না, প্রশ্নটা করো।
-- ক্রিস্ট দ্যা রিডিমার কোন দেশের কেন শহরে অবস্থিত?
সেদিন রোদেলার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি। রোদেলাই আমাকে উত্তরটা বলে দিয়েছিল। তাই আজ এই ইন্টারভিউ রুমে বসে রোদেলার কথা খুব মনে পড়লো।
-- ওহে ছোকরা নক আউট হয়ে গেলে নাকি? উত্তর জানো না?
-- জানি স্যার জানি। উত্তর হচ্ছে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে অবস্থিত।
-- হা হা গুড বয়। উত্তর সঠিক হয়েছে। এইচআরের ইকরামের সাথে দেখা করে যেও। সে তোমাকে সব বুঝিয়ে দেবে। আমার মেয়ে রোদেলা আর আমার স্ত্রী মনিকা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আজ আমার মেয়ের জন্মদিন। কালকে দেখা হচ্ছে ইয়ং ম্যান।
-- জানি স্যার জানি। উত্তর হচ্ছে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে অবস্থিত।
-- হা হা গুড বয়। উত্তর সঠিক হয়েছে। এইচআরের ইকরামের সাথে দেখা করে যেও। সে তোমাকে সব বুঝিয়ে দেবে। আমার মেয়ে রোদেলা আর আমার স্ত্রী মনিকা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আজ আমার মেয়ের জন্মদিন। কালকে দেখা হচ্ছে ইয়ং ম্যান।
স্যারের মুখে এই কথা শুনে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো। সর্বনাশ! আজকে রোদেলার জন্মদিন, কিন্তু আমি একেবারেই ভুলে গেছি ব্যাপারটা? ভাগ্যিস শশুড় মশাই মনে করিয়ে দিয়েছে। নয়তো মনেই পড়তো না।

COMMENTS