একটা তীক্ষ্ণ চিৎকার কান দিয়ে ঢুকে একদম মগজে গিয়ে বেধ করেছে, নিভু নিভু করে চোখ মেলে দেখি আমার বউ কোমরে হাত দিয়ে অগ্নিমূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে। ডিএসএলআর এর ব্যাকগ্রাউন্ডের মতো ঝাপসা দেখছি ঘুমের জন্য, তবে আন্দাজ করতে পারছি তাকে অসাধারণ লাগছে। কপালে লাল ছোট্ট একটা টিপ, গোলাপী রঙের শাড়ি, চুলগুলো ফ্যানের বাতাসে উড়তেছে। উফ!! অসাধারণ। নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখায় হাত দিয়ে নাগাল পাচ্ছিনা, তাই তার বালিশ টান দিয়ে এনে মুখ গুঁজে আবার ঘুম। তার চুল আর গায়ের একটা অদ্ভুত ঘ্রান মিশে একাকার হয়ে আছে বালিশটায়। ইচ্ছা করছে বালিশে ডুবে যাই।
আবার চিৎকার।
.
- এই তোমার এত্তো বড় সাহস এখনো ঘুম থেকে উঠো নাই? অফিসে যাবেনা, কয়টা বাজে খেয়াল আছে?
- আরে বাবা বৃষ্টি খুব, অফিস কেমনে যাবো?
- তোমার প্রতিদিন বাহানা, ছাতা নিয়ে যাও। আজকে অফিস কামাই করলে কপালে শনি আছে, উঠো বলেই কাঁথা ধরে দিলো টান।
- কোনো ভাবে কাঁথাটা আটকে, বললাম; কি করতেছো বেইব লুঙ্গির ঠিক নাই তো, ইজ্জত ধরে টান দাও কেন খালি? উঠবো তো।
- কাঁথা তোমার ইজ্জত? তোমার মতো আইলসা আমি জীবনেও দেখি নাই, আমি বলে টিকে আছি আর কেউ হলে.....।
- মনে মনে বললাম এই বাক্য এতো তাড়াতাড়ি'ই শুনতে হবে ভাবি নাই। যাইহোক, আমার ঠান্ডা লাগতেছে জান। আজকে অফিস না যাই? প্লিজ।
- তোমার সারা জীবন ঠান্ডা লাইগা আছে নতুন না, সুইটার পরে মাফলার গলায় পেছিয়ে যাবা উঠো এখন।
- একটু কাছে আসো না।
- দুষ্টুমির সময় নাই, নাস্তা রেডি করতে হবে। আরো অনেক কাজ পরে আছে, উঠো নইলে পানি ঢালবো।
- আহা শুনো একটু খিচুড়ি রান্না করোনা, বৃষ্টির দিন রোমান্টিক ফিলিংস। কি বলো? দারুন হবে না?
- আমি কিন্তু পানি নিয়ে আসতেছি, এক্ষুনি উঠে অফিস যাও। মুখটা বাঁকা করে বললো; এহহ্ খিচুড়ি খাবেন উনি।
.
মিন মিন করে কিচেনে চলে গেলো, প্রতিদিনের এই অদ্ভুত খুনসুটিও এক একটা ভালোবাসার অংশ। আমি সবসময় এভাবেই চাই, টুনাটুনির সংসার। একদম প্রথম থেকেই এমনটাই স্বপ্ন দেখতাম, একদিন সত্যি হবে ভাবতেই পারিনি। এসব ভাবতে ভাবতেই এক জগ পানি ঢেলে দিলো আমার উপর।
.
একদম লাফিয়ে বিছানা থেকে উঠলাম।
পুরো বিছানা ভিজে শেষ একেবারে, তাকিয়ে দেখি জানালা খোলা। খুব বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে, বাতাসে বৃষ্টির পানি রুমে ঢুকে বই খাতা কম্পিউটার সব ভিজে গেছে। রুমে পানি লেগে গেছে। চিল্লায়া বললাম; এই কই তুমি? জান শুনছো?
দৌড়ে গেলাম কিচেনে। গিয়ে দেখি কেউ নাই। অন্যান্য রুমে গিয়ে দেখি যে যার মতো করে ঘুমে।
রুমে এসে নিজেকে রি-কবার করলাম। আমি একজন ব্যাচেলর, কয়েকটা ফ্রেন্ড নিয়ে মেসে থাকি। দিবা স্বপ্ন দেখতেছিলাম।
ছোট বেলায় রাতে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখতাম অনেকগুলো চকলেট বালিশের নিচে রাখতেছি, সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন খুঁজে পেতামনা, তখন খাটের নিচে খুঁজতাম, তোষকের নিচে খুঁজতাম। খুঁজে পেতাম না বলে খুব কাঁদতাম।
এখন'ও কাঁদতে ইচ্ছে করছে, আগে রুমের পানিটা সেচতে হবে। যাই।
.
COMMENTS