ঘটকালি। ১৪ই ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালবাসা দিবসে বাসা থেকে বের হইনি।পরের দিন সকাল বেলা পাড়ার এক ছোট ভাই বাসায় এসে হাজির।মুখটা মলিন,কাঁদো কা...
ঘটকালি।
১৪ই ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালবাসা দিবসে বাসা থেকে বের হইনি।পরের দিন সকাল বেলা পাড়ার এক ছোট ভাই বাসায় এসে হাজির।মুখটা মলিন,কাঁদো কাঁদো ভাব।এমন তো হওয়ার কথা নয়, বেশ হাসিখুসি ছেলে, হঠাৎ কি হলো।শুয়ে ছিলাম, সে অবস্থায় বললাম, কাহিনি কি?
সে বসতে বসতে বললো, বড় ভাই,পড়ে গেছি।
-সেকি, কিভাবে পড়লে,ব্যাথা পাওনি তো?আমি শোয়া থেকে উঠে বসলাম।
-আহ বড় ভাই,সে পড়া নয়,প্রেমে পড়ে গেছি
আমি ধপাস করে আবার শুয়ে পড়লাম।
-শুধু আপনি রাজি হন,তাহলে সব ঠিক।
-কিসে রাজি হব।
-প্রেমে।
- লে হালুয়া, তুমি আমার সাথে প্রেম করবে নাকি!
ছেলেটা এমন বোকা বোকা কথা বলছে,রাগ হচ্ছে।শুনেছি ছেলেরা প্রেমে পড়লে বোকা হয়,এতো প্রেম করার আগেই গাধা হয়ে গেছে। মায়া লাগল।এক গ্লাস পানি দিলাম, ঢকঢক করে খেয়ে ফেললো।
-মেয়েটার নাম কি?
-জানি না বড় ভাই।
-মানে!মেয়ের নাম জান না? আমি হাসবো না কাঁদবো বুজতে পারছি না।
আমি ধমক দিয়ে বললাম,নাম জান না?
-না।
-বাসা কোথায়?
-জানি না।
আমি ছেলেটাকে প্রচন্ড একটা চড় দিতে চাচ্ছি,পারছি না।
অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।আমার কেমন মায়া লাগল।
-এবার ব্যাপার টা খুলে বলতো।
সে বলতে শুরু করল।সে যা বলল তার সারমর্ম দাড়ায়,পাঁচ ছয় দিন আগে সে বন্ধুদের নিয়ে বই মেলায় গিয়েছিল।একটা স্টলে মেয়ে টাকে দেখেছে বই বিক্রি করতে।অসম্ভব ভাল লেগেছে তার।তার পর থেকে প্রতিদিন সে ঐ স্টলে যায়,এ ক,দিনে অনেক বই কিনেছে ঐ স্টল থেকে শুধু মেয়েটাকে দেখার জন্য।ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকেছে, নাম জিজ্ঞেস করতে সাহস পায়নি।
- তা আমাকে কি করতে হবে?
- জানি না গুরু,শুধু জানি তুমি চেষ্টা করলে সব সম্ভব।
- আমি পারব নারে ব্যাটা।
সে কেঁদে ফেললো,ও কথা বল না গুরু,সে আমার পা জড়িয়ে ধরল।শুনেছি ছেলেরা প্রেমে পড়লে বোকা হয়, এতো দেখি আবাল হয়ে গেছে।
সন্ধার পর বাসা থেকে বের হলাম ওকে নিয়ে।বই মেলায় গিয়ে সেই স্টল খুজে বের করলাম।মেয়েটা দেখলাম, সাধারন মানের একটি মেয়ে।অথচ ওর কাছে বিশ্ব সু্ন্দরী।হায় রে প্রেম!
দু,একটা বই কেনার ফাকে ফাকে মেয়েটার সাথে কথা বললাম,নাম রিমা।বাসা কাছেই বাটা চত্বর
এলাকার দিকে।মেয়ে টাকে স্মার্ট বলে মনে হল।তাই ভনিতা না করে ঘটনা খুলে বললাম,সব শুনল।ওর দিকে তাকিয়ে হাসল।তারপর বললো, অপেক্ষা করেন।
ছোট ভাইয়ের দিকে তাকালাম,ওর চোখ বলছে আমি বিশ্বজয় করে ফেলেছি।আনন্দে ঘামছে।
স্টল বন্ধ হওয়ার পর মেয়েটি বললো,চলুন,আমার বাসা কাছেই, এক কাপ চা খেয়ে যাবেন।
আনন্দে ছোট ভাইয়ের চোখ চিক চিক করছে।মানুষ মেঘ না চাইতেই জল পায়, এ তো দেখি সমুদ্র পেয়ে যাচ্ছে।হাটতে হাটতেই মেয়েটার বাসায় পৌছে গেলাম।গেট খুলে বাড়ির ভিতরে ঢুকলাম।একটা ড্রয়িং রুমে বসলাম।
রিমা বললো,আপনারা বসুন,চা'য়ের ব্যাবস্হা করছি।
সে ভিতরে চলে গেল।
ছোট ভাই আমার হাত জড়িয়ে ধরলো,আমি বলেছি না গুরু, তুমি থাকলে সব হয়!আহ গুরু, তুমি কি চিজ! ওর আনন্দ দেখে আমারও ভাল লাগছে।
ছোট ছোট দু'টো বাচ্চা রুমে প্রবেশ করল,বেশ সুন্দর দেখতে।বেশ মিষ্টি।ছোট ভাই একজনকে কোলে তুলে নিল।
- বাবু, তোমার নাম কি?
-নদী
তোমার আব্বুর নাম কি?
হুমায়ুন।ঐ তো আমার আব্বু। বলেই দেয়ালে টাঙানো একটা ছবি দেখালো।ছবিতে রিমার পাশে এক ভদ্রলোক।আমি ঘামতে শুরু করলাম।
আমতা আমতা করে কোন রকমে বলতে পারলাম, পাশের মহিলাটি কে?
-কেন, আমার আম্মু!
ছোট ভাইয়ের দিকে তাকালাম,চোখ ইশারা করলাম,যার অর্থ দাড়ায়,ব্যাটা দৌড় দে।
চা খাওয়ার দরকার নাই।বেঁচে থাকলে আরেকদিন
খাওয়া যাবে, আগে তো ইজ্জত রক্ষা করি!
স্টল বন্ধ হওয়ার পর মেয়েটি বললো,চলুন,আমার বাসা কাছেই, এক কাপ চা খেয়ে যাবেন।
আনন্দে ছোট ভাইয়ের চোখ চিক চিক করছে।মানুষ মেঘ না চাইতেই জল পায়, এ তো দেখি সমুদ্র পেয়ে যাচ্ছে।হাটতে হাটতেই মেয়েটার বাসায় পৌছে গেলাম।গেট খুলে বাড়ির ভিতরে ঢুকলাম।একটা ড্রয়িং রুমে বসলাম।
রিমা বললো,আপনারা বসুন,চা'য়ের ব্যাবস্হা করছি।
সে ভিতরে চলে গেল।
ছোট ভাই আমার হাত জড়িয়ে ধরলো,আমি বলেছি না গুরু, তুমি থাকলে সব হয়!আহ গুরু, তুমি কি চিজ! ওর আনন্দ দেখে আমারও ভাল লাগছে।
ছোট ছোট দু'টো বাচ্চা রুমে প্রবেশ করল,বেশ সুন্দর দেখতে।বেশ মিষ্টি।ছোট ভাই একজনকে কোলে তুলে নিল।
- বাবু, তোমার নাম কি?
-নদী
তোমার আব্বুর নাম কি?
হুমায়ুন।ঐ তো আমার আব্বু। বলেই দেয়ালে টাঙানো একটা ছবি দেখালো।ছবিতে রিমার পাশে এক ভদ্রলোক।আমি ঘামতে শুরু করলাম।
আমতা আমতা করে কোন রকমে বলতে পারলাম, পাশের মহিলাটি কে?
-কেন, আমার আম্মু!
ছোট ভাইয়ের দিকে তাকালাম,চোখ ইশারা করলাম,যার অর্থ দাড়ায়,ব্যাটা দৌড় দে।
চা খাওয়ার দরকার নাই।বেঁচে থাকলে আরেকদিন
খাওয়া যাবে, আগে তো ইজ্জত রক্ষা করি!
হানিফ ওয়াহিদ

COMMENTS