তুমি কয়টা খুন করেছ জানো? জ্বি সাতটা। সেটা এত স্বাভাবিক ভাবে কি করে বলছ তুমি তোমার কি এতটুকু ভয় করেনা? ভয় হা হা হা ভয়ের কথা বলছেন ওরাই ...
তুমি কয়টা খুন করেছ জানো?
জ্বি সাতটা।
সেটা এত স্বাভাবিক ভাবে কি করে বলছ তুমি তোমার কি এতটুকু ভয় করেনা?
ভয় হা হা হা ভয়ের কথা বলছেন ওরাই তো আমার ভয়কে খুন করেছে তাহলে আমি ওদের খুন করলে দোষ কোথায়।
তুমি কি মেন্টালি সিক অবশ্য যে সাত সাতটা খুন করে এমন ফ্রিলি কথা বলে তার মাথায় সমস্যা থাকবেনা তো কার মাথায় থাকবে। তবে তুমি পাগল হলেও পার পাবেনা কারণ ওদের মধ্যে আমজাদ সাহেবের একমাত্র ছেলে ও ছিল।
আমি পুরো সুস্থ স্বাভাবিক আছি। আর ওদের মেরে এতটুকু আফসোস নেই আমার।
মানছি ওরা যা করেছে তা ভুল ছিল কিন্তু তুমি সব ভুলে নতুন করে সব সাজাতে পারতে। আর ক্ষতিপুরণ হিসেবে অনেক গুলো টাকা ও তো দিতে চেয়েছিল ওরা।
আচ্ছা ওদের থেকে বেশি টাকা আমি আপনাকে দেই যদি আপনি পারবেন একদিনের জন্য নিজের শরির বিকিয়ে দিতে?
এসব কেমন কথা তোমার সাথে যা হয়েছে একসিডেন্টলি আর তাছাড়া আমি শুনেছি তোমার সাথে যার বিয়ের কথা ছিল সে সব জানার পরিবর্তেও তোমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। সব ভুলে গিয়ে তার সাথে নতুন করে বাচঁতে পারতে।
সব কি চাইলেই ভোলা যায়। বিয়ের পর যখনই সে আমার শরীর স্পর্শ করতে যেত তার কি মনে হতো না তার স্ত্রী কে তার আগেও অন্য পুরুষরা স্পর্শ করেছে। আর তাছাড়া সে মেনে নিয়েছে বলে যে তার পরিবার সমাজ আমাকে মেনে নিত সেটাও তো না।
ঠিক আছে বিয়ে করতে না মানলাম কিন্তু নিজের পরিবারের কথা ভাবতে পারতে ওরা যে টাকা গুলো দিত তাতে তোমারা বেটার লাইফ লিড করতে পারতে। এখন তোমার যখন ফাসিঁ হবে তখন তোমার মা বাবা আর ছোট ভাইটার কি হবে ভেবেছো কখোনো?
কি বলতে চাইছেন এভাবে প্রতিবার ওরা অন্যায় করে টাকা ধরিয়ে দিত আর আমরা চুপচাপ সহ্য করতাম। তাহলেতো একজন পতিতা আর আমার মধ্যে কোনো তফাতই থাকতোনা। সেদিন রাতে যখন কুকুর গুলো আমাকে খুবলে খাচ্ছিলো তখনই আমার মৃত্যু হয়েছে। আর আমার পরিবারের কথা বলছেন তারা তো গর্বিত হবে। তাদের মেয়ে কতগুলো মেয়েকে বাচিঁয়ে দিল এই শয়তান গুলোর কাছ থেকে। আমার ছোট ভাই এই ঘটনাটা যতদিন মনে রাখবে কোনোদিন কোনো মেয়েকে অসম্মান করবে না। এরপর অনেকদিন কোনো পুরুষের হাতে কোনো নারী ধর্ষিত হবে না। আচ্ছা একটা কথা বলবেন আপনাদের সোসাইটিতে তো অনেক মেয়েরা সেচ্ছায় ধর্ষিত হতে চায়। কুকুর গুলো তাহলে আমাদের নতো মধ্যবিত্ত মেয়েদের সপ্ন গুলোই কেন ধ্বংস করে দেয়?
কি বলবো বলো মানুষ যা সহযে পায় তার পিছনে কি কখোনো যায়। আমাকে বলা হয়েছিল তোমার কাউনসিলিং করে তোমাকে যেনো এটা স্বীকার করাই যে ওরা তোমাকে ধর্ষন করেনি বরং সেচ্ছায় তুমি সেদিন ওদের কাছে গিয়েছো এবং পর্যাপ্ত টাকা না পাওয়ায় ওদের ওপর ক্ষেপে গিয়ে ওদের খুন করেছো এবং নিজেকে ভালো প্রমান করতে চেয়েছো।
সেটা কি খুব বোকা বোকা মনে হচ্ছে না। টাকা না পেয়ে সাতটা খুন করবো আর নিজেও মরবো।
ব্যাপারটা বোকা মনে হলেও বাস্তবতা। এই যেমন আমজাদ সাহেবকেই দেখ ছেলের মৃত্যুতে তিনি যতনা শোকাহতো নিজের রেপুটেশন সোসাইটিতে নিজের সম্মান হারানো নিয়ে তিনি বেশি চিন্তিত। তাইতো আমাকে পাঠিয়েছেন তোমাকে পুরোপুরি দোষি বানানোর জন্য। কিন্তু আমি এখন আর তোমাকে দোষি বানাবোনা বরং তোমাকে বাচাঁতে চাই।
একটা জীবন্ত লাশ বাচিঁয়ে শুধু শুধু পৃথিবীর বোঝা কেনো বারাবেন আর নিজের বিপদই বা কেনো ডাকবেন। আর তাছাড়া আপনি আমকে বাচাঁলেও আমার কাছে আত্মহত্যা ছাড়া কোনো উপায় থাকবেনা। যদি সত্যিই আমাকে বাচাঁতে চান তাহলে আমাকে মরতে দিন আর আমার মৃত্যু আসল সত্যিটা সবার কাছে পৌছে দিন। কারণ আমি বেচেঁ থাকলে মানুষ যেটা মানবেনা মরলে সেটা সহযেই মেনে নেবে।
হুম ঠিক বলেছো মানুষ আসলেই অদ্ভুত। আমিও কিন্তু খুব স্বার্থপর টাকার বিনিময় অনেক মিথ্যা কেস সত্যি প্রমানিত করেছি কিন্তু আজকে আমাকে একজন নারী হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তোমার ঐ খারাপ স্মৃতি গুলোকে হয়তো মেরে ফেলতে পারবোনা কিন্তু তোমাকে আত্মহত্যা নামক পাপ থেকে বাচাঁতেই পারি। এমনিতেও হয়তো তোমায় এদের হাত থেকে বাচাঁতে পারতাম না।
ভাববেন না এরা আমাকে মেরে ফেলবে ঠিকই কিন্তু আপনি আমাকে জীবিত করবেন আমার মৃত্যুর আসল রহস্য সবার কাছে পৌছে দিয়ে। আপনার কাছে তো সব প্রমানই আছে বোধহয়।
হ্যা ওদের আমাকে বলা সব কথাই রেকোর্ড করা আছে আর তোমার পুরো স্টেইটমেন্ট ও রয়েছে আমার কাছে সো নো টেনশন।
হুম নিশ্চিন্তে মরতে পারবো এবার।
গল্প:নিশ্চিন্তে মৃত্যু
লেখা : জেসিয়া জান্নাত রিম
জ্বি সাতটা।
সেটা এত স্বাভাবিক ভাবে কি করে বলছ তুমি তোমার কি এতটুকু ভয় করেনা?
ভয় হা হা হা ভয়ের কথা বলছেন ওরাই তো আমার ভয়কে খুন করেছে তাহলে আমি ওদের খুন করলে দোষ কোথায়।
তুমি কি মেন্টালি সিক অবশ্য যে সাত সাতটা খুন করে এমন ফ্রিলি কথা বলে তার মাথায় সমস্যা থাকবেনা তো কার মাথায় থাকবে। তবে তুমি পাগল হলেও পার পাবেনা কারণ ওদের মধ্যে আমজাদ সাহেবের একমাত্র ছেলে ও ছিল।
আমি পুরো সুস্থ স্বাভাবিক আছি। আর ওদের মেরে এতটুকু আফসোস নেই আমার।
মানছি ওরা যা করেছে তা ভুল ছিল কিন্তু তুমি সব ভুলে নতুন করে সব সাজাতে পারতে। আর ক্ষতিপুরণ হিসেবে অনেক গুলো টাকা ও তো দিতে চেয়েছিল ওরা।
আচ্ছা ওদের থেকে বেশি টাকা আমি আপনাকে দেই যদি আপনি পারবেন একদিনের জন্য নিজের শরির বিকিয়ে দিতে?
এসব কেমন কথা তোমার সাথে যা হয়েছে একসিডেন্টলি আর তাছাড়া আমি শুনেছি তোমার সাথে যার বিয়ের কথা ছিল সে সব জানার পরিবর্তেও তোমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। সব ভুলে গিয়ে তার সাথে নতুন করে বাচঁতে পারতে।
সব কি চাইলেই ভোলা যায়। বিয়ের পর যখনই সে আমার শরীর স্পর্শ করতে যেত তার কি মনে হতো না তার স্ত্রী কে তার আগেও অন্য পুরুষরা স্পর্শ করেছে। আর তাছাড়া সে মেনে নিয়েছে বলে যে তার পরিবার সমাজ আমাকে মেনে নিত সেটাও তো না।
ঠিক আছে বিয়ে করতে না মানলাম কিন্তু নিজের পরিবারের কথা ভাবতে পারতে ওরা যে টাকা গুলো দিত তাতে তোমারা বেটার লাইফ লিড করতে পারতে। এখন তোমার যখন ফাসিঁ হবে তখন তোমার মা বাবা আর ছোট ভাইটার কি হবে ভেবেছো কখোনো?
কি বলতে চাইছেন এভাবে প্রতিবার ওরা অন্যায় করে টাকা ধরিয়ে দিত আর আমরা চুপচাপ সহ্য করতাম। তাহলেতো একজন পতিতা আর আমার মধ্যে কোনো তফাতই থাকতোনা। সেদিন রাতে যখন কুকুর গুলো আমাকে খুবলে খাচ্ছিলো তখনই আমার মৃত্যু হয়েছে। আর আমার পরিবারের কথা বলছেন তারা তো গর্বিত হবে। তাদের মেয়ে কতগুলো মেয়েকে বাচিঁয়ে দিল এই শয়তান গুলোর কাছ থেকে। আমার ছোট ভাই এই ঘটনাটা যতদিন মনে রাখবে কোনোদিন কোনো মেয়েকে অসম্মান করবে না। এরপর অনেকদিন কোনো পুরুষের হাতে কোনো নারী ধর্ষিত হবে না। আচ্ছা একটা কথা বলবেন আপনাদের সোসাইটিতে তো অনেক মেয়েরা সেচ্ছায় ধর্ষিত হতে চায়। কুকুর গুলো তাহলে আমাদের নতো মধ্যবিত্ত মেয়েদের সপ্ন গুলোই কেন ধ্বংস করে দেয়?
কি বলবো বলো মানুষ যা সহযে পায় তার পিছনে কি কখোনো যায়। আমাকে বলা হয়েছিল তোমার কাউনসিলিং করে তোমাকে যেনো এটা স্বীকার করাই যে ওরা তোমাকে ধর্ষন করেনি বরং সেচ্ছায় তুমি সেদিন ওদের কাছে গিয়েছো এবং পর্যাপ্ত টাকা না পাওয়ায় ওদের ওপর ক্ষেপে গিয়ে ওদের খুন করেছো এবং নিজেকে ভালো প্রমান করতে চেয়েছো।
সেটা কি খুব বোকা বোকা মনে হচ্ছে না। টাকা না পেয়ে সাতটা খুন করবো আর নিজেও মরবো।
ব্যাপারটা বোকা মনে হলেও বাস্তবতা। এই যেমন আমজাদ সাহেবকেই দেখ ছেলের মৃত্যুতে তিনি যতনা শোকাহতো নিজের রেপুটেশন সোসাইটিতে নিজের সম্মান হারানো নিয়ে তিনি বেশি চিন্তিত। তাইতো আমাকে পাঠিয়েছেন তোমাকে পুরোপুরি দোষি বানানোর জন্য। কিন্তু আমি এখন আর তোমাকে দোষি বানাবোনা বরং তোমাকে বাচাঁতে চাই।
একটা জীবন্ত লাশ বাচিঁয়ে শুধু শুধু পৃথিবীর বোঝা কেনো বারাবেন আর নিজের বিপদই বা কেনো ডাকবেন। আর তাছাড়া আপনি আমকে বাচাঁলেও আমার কাছে আত্মহত্যা ছাড়া কোনো উপায় থাকবেনা। যদি সত্যিই আমাকে বাচাঁতে চান তাহলে আমাকে মরতে দিন আর আমার মৃত্যু আসল সত্যিটা সবার কাছে পৌছে দিন। কারণ আমি বেচেঁ থাকলে মানুষ যেটা মানবেনা মরলে সেটা সহযেই মেনে নেবে।
হুম ঠিক বলেছো মানুষ আসলেই অদ্ভুত। আমিও কিন্তু খুব স্বার্থপর টাকার বিনিময় অনেক মিথ্যা কেস সত্যি প্রমানিত করেছি কিন্তু আজকে আমাকে একজন নারী হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তোমার ঐ খারাপ স্মৃতি গুলোকে হয়তো মেরে ফেলতে পারবোনা কিন্তু তোমাকে আত্মহত্যা নামক পাপ থেকে বাচাঁতেই পারি। এমনিতেও হয়তো তোমায় এদের হাত থেকে বাচাঁতে পারতাম না।
ভাববেন না এরা আমাকে মেরে ফেলবে ঠিকই কিন্তু আপনি আমাকে জীবিত করবেন আমার মৃত্যুর আসল রহস্য সবার কাছে পৌছে দিয়ে। আপনার কাছে তো সব প্রমানই আছে বোধহয়।
হ্যা ওদের আমাকে বলা সব কথাই রেকোর্ড করা আছে আর তোমার পুরো স্টেইটমেন্ট ও রয়েছে আমার কাছে সো নো টেনশন।
হুম নিশ্চিন্তে মরতে পারবো এবার।
গল্প:নিশ্চিন্তে মৃত্যু
লেখা : জেসিয়া জান্নাত রিম

COMMENTS